
আরও একটি আন্তর্জাতিক নদী দিবস—২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ – চলে এলো । আরও এক দফা কর্মসূচি এবং জোরালো আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু সরকারি তথ্যই জানাচ্ছে যে ভারতের নদীগুলি ক্রমশ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে । কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সারা দেশে মূল্যায়ন করা ৬২৩টি নদীর মধ্যে প্রায় ২৭১টি — অর্থাৎ প্রায় ৪৩ শতাংশ — দূষিত।
The Plurals এর সঙ্গে নদী বিশেষজ্ঞ, ম্যাগসেসে পুরস্কার ও স্টকহোম ওয়াটার প্রাইজ প্রাপ্ত ‘ভারতের জলপুরুষ’ রাজেন্দ্র সিংয়ের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে দেশের নদীপরিস্থিতির নানা দিক উঠে এসেছে l
জয়ন্ত বসু (JB): ভারতকে সাধারণত নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। অথচ একটি সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী ৪০ শতাংশেরও বেশি নদী উল্লেখযোগ্যভাবে দূষিত। অন্যদিকে, সরকারের নিজস্ব তথ্যই বলছে, গত এক দশকে কেন্দ্রীয় সরকার নদীগুলির জন্য প্রায় ২৬,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এই বৈপরীত্যকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? এই বিপুল পরিমান টাকা যাচ্ছে কোথায়?
রাজেন্দ্র সিং (RS): দূষণের সঙ্গেই টাকা প্রবাহিত হচ্ছে! আমাদের নদীতে যেমন দূষণ রয়েছে, তেমনই আমাদের মানসিকতার মধ্যেও দূষণ রয়েছে। আর সেই কারণেই এই টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছেনা । যে সমাজ ও সরকার নদীকে নদী হিসেবে বাঁচিয়ে রাখে, নর্দমায় পরিণত হতে দেয় না; তারাই সততার পরিচয় দেয়। কিন্তু যে দেশে দূষণের কারণে নদী নর্দমায় পরিণত হয়, সেখানে দূষণ ও দুর্নীতির মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে বলেই আমি মনে করি। আমরা যদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে এত টাকা খরচ করার পরেও দূষণ বন্ধ করতে না পারি, বরং তা আরও বাড়তে থাকে, তাহলে আপনার দেওয়া তথ্য আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, দেশের প্রায় সব নদীই দূষিত। এমন একটি নদীও খুঁজে পাওয়া কঠিন যার জল পান করা যায়; অধিকাংশ নদীর জল এমনকি স্নানের জন্যও অনুপযোগী।
JB: গঙ্গা পুনরুজ্জীবনের জন্য, এবং একইভাবে অন্যান্য নদীর ক্ষেত্রেও, বহু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি IIT একসঙ্গে গঙ্গা নিয়ে গবেষণা করে একটি পরিকল্পনাও তৈরি করেছিল। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে?
RS: ২০০৯ সালে ন্যাশনাল গঙ্গা রিভার বেসিন অথরিটি (NGRBA) গঠিত হয়। সেই সময় দেশের সব IIT একটি কনসোর্টিয়াম তৈরি করে গঙ্গার উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত সমীক্ষা করেছিল। গঙ্গাকে কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, সেই বিষয়ে সমীক্ষাটি অত্যন্ত জরুরি দিকনির্দেশ করেছিল l কিন্তু প্রযুক্তিবিদরা সেটিকে শেষ পর্যন্ত একটি ইঞ্জিনিয়ারিং রিপোর্টে পরিণত করে ফেললেন!
JB: আপনি বলতে চাইছেন, IIT-এর রিপোর্টটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার বা মূল্যায়ন করা হয়নি? রিপোর্ট অনুযায়ী যে কাজ হওয়ার কথা ছিল, তা বাস্তবে করা হয়নি?
RS: একেবারেই হয়নি। সেই সময় আমি NGRBA-র সদস্য ছিলাম। কমপক্ষে সাতজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ছিলেন NGRBA তে। গঙ্গার সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিক চরিত্র কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায়, সমাজে কী পরিবর্তন প্রয়োজন এবং নদীর দুই তীরের সরকারের কাজের ধরন কীভাবে বদলানো দরকার—এসব বিষয় নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। কিন্তু পরে গঙ্গা বেসিন অথরিটির বৈঠকও বন্ধ হয়ে যায়। গত ১২–১৪ বছরে, যতদূর শুনেছি, হাতে গোনা কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। গঙ্গার নামে যে টাকা খরচ হয়, তা ঠিকাদারদের পকেটে যায় এবং সেখান থেকে রাজনীতিবিদ ও ইঞ্জিনিয়ারদের পকেটে যায়। মনে হয় যেন সরকার গঙ্গা সহ যাবতীয় নদীগুলির ভবিষ্যৎকে ঠিকাদারদের হাতেই ছেড়ে দিতে চায়।
JB: আপনার কাছে এই সমস্যা সমাধানের উপায় কী?
RS: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র কিংবা নর্মদা—এসব সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক নদী। তাই এগুলিকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই পুনরুদ্ধার করতে হবে। যাঁরা নদীকে মায়ের মতো মনে করেন, তাঁদের হাতেই নদী বাঁচানোর দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমার মা অসুস্থ হলে আমি তাঁকে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। মা গঙ্গাও অসুস্থ; বহুদিন ধরেই অসুস্থ। কিন্তু তাঁর সন্তান তাঁর জন্য সবচেয়ে ভালো চিকিৎসক খুঁজছে না; বরং এমন ঠিকাদার খুঁজছে, যে তাঁকে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করতে চায়।
JB: মনে হচ্ছে, গঙ্গা রাজনীতির পাঁকে আটকে পড়েছে …
RS: হ্যাঁ, গঙ্গার সঙ্গে রাজনীতি আপাদমস্তক জড়িয়ে পড়েছে। আমি আবারও বলছি, যে গঙ্গা আমাদের আধ্যাত্মিকতা, পবিত্রতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র ছিল, আজ তা ঠিকাদারদের হাতে চলে গেছে। আর ঠিকাদারদের প্রধান চিন্তা হল মুনাফা।
JB: গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, নর্মদার মতো বড় নদী ছাড়াও সারা দেশে অসংখ্য ছোট নদী রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বেশ কয়েকটি ছোট নদী রয়েছে। বহু নদীবিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীর দাবি, এগুলির অনেকগুলি এখন সম্পূর্ণ ঋতু-ভিত্তিক নদীতে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও একই পরিস্থিতি কমবেশি দেখা যাচ্ছে। কী ভবিষ্যৎ এই ছোট নদীগুলির?
RS: জয়ন্ত, গত ৫১ বছরে আমি ২৩টি নদী পুনরুজ্জীবিত করেছি। এখন সেগুলি নির্মল এবং সারা বছর জলপ্রবাহ রয়েছে। আমার মতো একজন সাধারণ মানুষ—যার না আছে অর্থ, না আছে ক্ষমতা—যদি ২৩টি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করে সেগুলিকে সারা বছর প্রবাহমান করতে পারে, তাহলে সরকারের বিপুল ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা একটি নদীকেও কেন পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে না? কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বা রাজস্থান সরকার—কেউই আজ এমন একটি নদীর উদাহরণ দেখিয়ে বলতে পারবে না যে, “আমরা এই নদীকে পরিষ্কার করেছি এবং তার সারা বছরের জলপ্রবাহ নিশ্চিত করেছি।”
JB: সম্প্রতি নেপালে কী ঘটেছে তা আমরা দেখেছি। কীভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে গোটা সম্প্রদায়, একের পর এক গ্রাম ভেসে গেল! বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আপনার কি মত ? নেপালের ঘটনা থেকে ভারতই বা কী শিক্ষা নিতে পারে?
RS: দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে আগে যাই। ভারতে আমাদের পাহাড় রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনও আইন নেই। সরকার অনেক আইন করেছে, কিন্তু পাহাড়ের জন্য নয়। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের একটি বড় অংশ ভারতের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকার এখনও হিমালয় নীতি প্রণয়ন বা হিমালয় রক্ষা আইন তৈরির জন্য প্রস্তুত নয়। আমি নেপালের ঘটনাটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঘটনার পরের দিনই আমি নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি বিহারে ছিলাম।
JB: জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠছে। নেপালের বিপর্যয় সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
RS: এটি শুধু হিমবাহ সরে যাওয়ার কারণে ঘটে যাওয়া কোনও দুর্ঘটনা ছিল না। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক ছিল। ফলে দুই পাহাড়ের মাঝখানে একটি স্তর ছিল, যা গলে কাদামাটির মতো তরলে পরিণত হয়। এরপর প্রায় এক কিলোমিটার উঁচু এবং ১.৬ কিলোমিটার প্রশস্ত গোটা হিমবাহটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নেমে আসে। প্রচণ্ড গতিতে তা নেমে আসার ফলে গোটা এলাকা ও সেখানকার মানুষ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বিহারের মানুষও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন, এই বিপর্যয়ের প্রভাব প্রতিবেশী বিহারে পড়বে কি না। তবে নিচের দিকে প্রবাহের গতি কমে যাওয়ায় ভারতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।
JB: এবার ভারত হয়তো রক্ষা পেয়েছে। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চল এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তরবঙ্গে অতীতে একাধিকবার আকস্মিক বন্যা হয়েছে, বিহারেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। আগামীকাল বা পরশু এমন বিপর্যয় হলে আমরা কতটা নিরাপদ?
RS: নিশ্চয়ই ভারতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি আরও ভয়াবহ ঘটনাও ঘটতে পারে। হিমালয়ের হিমবাহগুলির কী অবস্থা হচ্ছে, তা আমাদের গভীরভাবে দেখতে হবে। তাপপ্রবাহ ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের যেন এক ধরনের “জ্বর” হয়েছে। সেই জ্বরের কারণে হিমালয়ের চরিত্র ও পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। তাই নেপালের ধ্বংসলীলা ভারতের ও ভারত সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। আমাদের অবশ্যই একটি হিমালয় নীতি প্রয়োজন।
JB: আপনি হিমালয় নীতির প্রয়োজনীয়তার কথা বারবার বলছেন l কখনও কি সরকারের কাছে বিষয়টি তুলেছেন? এমন নীতি কেমনই বা হওয়া উচিত, এবং এখনও কেন তা হয়নি?
RS: ভাই, গত ১২–১৩ বছর ধরে আমি এই দাবি জানিয়ে আসছি। ২০১৩ সালে আমরা ভারত সরকারের কাছে প্রস্তাবিত হিমালয় নীতির একটি নথি জমা দিয়েছিলাম। হিমালয় অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির কাছেও, যার মধ্যে উত্তরাখণ্ডও রয়েছে, সেই নথি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি এবং উল্লেখযোগ্য কোনও কাজও হয়নি। হিমালয়ের মানুষ মনে করেন, সরকার তাঁদের কথা শোনে না। সরকার হিমালয়ের কণ্ঠস্বর শোনে না, নদীর কণ্ঠস্বরও শোনে না।
JB: নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনার পরও কি সরকারকে কোনও চিঠি দিয়েছেন?
RS: অবশ্যই। আমরা এখনও এই দাবি জানিয়ে চলেছি। নেপালের ঘটনার পরও সরকার এবং বৃহত্তর সমাজের কাছে আমি আবার বিষয়টি তুলেছি। আপনি যখন প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করবেন, তখন প্রকৃতির রোষের মুখোমুখি হতে হবে। নেপাল এবং উত্তরাখণ্ডে আমরা সেটাই বারবার দেখছি—হিমালয়ের রোষ, প্রকৃতির রোষ।
JB: আপনি সমস্যাগুলি ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু ভারতের নদীগুলির অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে কী করা উচিত?
RS: আমাদের ছোট নদী এবং বড় নদী বাঁচাতে গেলে ছোট নদীগুলির ওপর জোর দিতে হবে কেননা সব নদীই প্রথমে ছোট নদী হিসেবে জন্ম নেয়; বহু ছোট নদী একত্রিত হয়েই একটি বড় নদী তৈরি হয়। তাই প্রথমেই আমাদের ছোট নদীগুলির উৎস ও উৎপত্তিস্থল রক্ষা করতে হবে। একটি নদীর উৎসকে তার শৈশব হিসেবে দেখতে হবে। আমরা যদি শৈশবকে রক্ষা না করি, তাহলে গোটা জীবন অসুস্থ থাকতে হবে। তাই সরকারের কাছে আমার প্রথম পরামর্শ; নদীগুলির উৎস ও উৎপত্তিস্থল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন ।
JB: অনেকে নদীর উৎসস্থলের কাছাকাছি মেগা পর্যটনকেও বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন।
RS: অবশ্যই। এই জায়গাগুলির সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে যথোচিত সম্মান দিয়ে, ভালোবাসা ও আনন্দ নিয়ে দেখতে হবে এবং এগুলিকে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু আজ আমাদের সরকাররা অনেক তীর্থস্থানকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করছে। বিপুল সংখ্যক পর্যটক সেখানে গিয়ে নদীর উৎসস্থলের চারপাশে ধ্বংস ডেকে আনছেন। নদীর উৎস আমাদের কাছে একটি তীর্থস্থান ছাড়া কিছুই নয় , সেটিকে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা উচিত নয়। সেখানে পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। তীর্থকে যখন আমরা পর্যটন ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করি, তখন আমরা টেকসই উন্নয়নের দিকে নয়, ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাই।
JB: আমরা যে উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করে চলেছি, তা নিয়েও প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে ।RS: ভারতকে নিজস্ব জ্ঞানের আলোয় নিজেদের দেখতে হবে। আমাদের প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে একসঙ্গে যোগ করতে হবে এবং বৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে হবে। এটাই আমাদের বহু পুরোনো বিশ্বাস; আর এই বিশ্বাস গড়ে উঠেছে ভালোবাসা ও আস্থার ভিত্তিতে। গত ৪০ বছরে আমি ভারতের একটি ভূ-সাংস্কৃতিক মানচিত্র তৈরি করেছি। সেই মানচিত্রে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতাকে যোগ করে আমি গোটা দেশকে ৮৬টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখার চেষ্টা করেছি; কারণ সর্বত্র একই ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা কাজ করবে না। তাই ভারতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকে যোগ করে; নইলে ভবিষ্যৎ আরো কঠিন হতে চলেছে।

